Posts

মানব সম্পদ কখনও বোঝা হবে না

মানব সম্পদ কখনও বোঝা হবে না মোঃ শাহাদৎ হোসেন মানুষ হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নতির মূলে থাকে মানুষ—যাকে আমরা মানব সম্পদ বলে থাকি। এই মানব সম্পদকে বোঝা মনে করলে তা হবে আমাদের জ্ঞানের ঘাটতি, দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এক সময় পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা ছিল বর্তমান জনসংখ্যার অর্ধেক। তখন কর্মসংস্থানের সংকট ছিল না, কিন্তু খাদ্যের তীব্র অভাব ছিল। মানুষকে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হতো, অনেক ক্ষেত্রেই মৌলিক চাহিদা পূরণ করা যেত না। অথচ আজকের দিনে খাদ্যের ঘাটতি অনেকটাই কমে এসেছে। বরং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে আলোচনা বেশি হয়। বাস্তবে দেখা যায়, উচ্চ শিক্ষিতদের বেকারত্বের হার বেশি হলেও অল্প শিক্ষিত বা দক্ষতাভিত্তিক কর্মীদের বেকারত্ব তুলনামূলক কম। এর মানে হলো—কর্মক্ষেত্র সব সময় নতুনভাবে তৈরি হয়, আর মানুষ তার দক্ষতার ভিত্তিতে সেখানে জায়গা করে নেয়। অনেক বিশেষজ্ঞ দাবি করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিভিন্ন পেশার মানুষকে বেকার করে দেবে। আমি এই মতকে সঠিক মনে করি না। প্রযুক্তি নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করে, আবার মানুষের জন্য নতুন কাজের...

মানব জনমের স্বার্থকতা

:মানব জনমের স্বার্থকতা — মোঃ শাহাদৎ হোসেন মানুষের জীবন কেবল ভোগ-বিলাসের জন্য নয়, কিংবা কেবল নিজের বংশবিস্তার করার জন্যও নয়। এই কাজ তো অন্যান্য প্রাণীরাও করে থাকে। তবে মানুষকে আলাদা করেছে তার চিন্তা, প্রজ্ঞা, বিবেক এবং কর্মের মহত্ত্ব। তাই মানব জনমকে সার্থক করতে হলে কেবল দেহের প্রয়োজন মেটালেই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বের চর্চা। মানুষ জন্ম নেয় এক মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে। সেই উদ্দেশ্য হলো সমাজ, দেশ, মানবতা এবং বিশ্বকে কিছু দেওয়া। যে মানুষ কেবল নিজের ক্ষুদ্র চাহিদার ঘেরাটোপে আবদ্ধ থাকে, তার জীবন বৃথা হয়ে যায়। কারণ ইতিহাসে স্থান পায় সে-ই, যে নিঃস্বার্থ কর্মের মাধ্যমে অন্যের জীবন আলোকিত করেছে। নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যে অন্যের কল্যাণে কাজ করেছে, মানব জনমের প্রকৃত স্বার্থকতা তাকেই স্পর্শ করেছে। আমরা যদি পৃথিবীতে আসার পর কোনো চিহ্ন রেখে যেতে না পারি, যদি মানুষের মুখে আমাদের নাম কৃতজ্ঞতার সাথে উচ্চারিত না হয়, তবে আমাদের জন্ম অর্থহীন হয়ে পড়বে। জীবন সীমিত হলেও কর্মের মহিমা সীমাহীন। একজন মানুষের কর্ম তার মৃত্যুর পরও তাকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই মানব জনমকে সার্থক করতে হলে আমাদের উচিত— ...

স্মৃতিরা মরে না

স্মৃতিরা মরে না মোঃ শাহাদৎ হোসেন পৃথিবী হলো মানুষের আসা–যাওয়ার অস্থায়ী মঞ্চ। কেউ জন্মায়, কেউ চলে যায়। সময়ের স্রোতে মানুষ হারিয়ে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। স্মৃতিই একমাত্র অবলম্বন, যা মানুষকে অতীতের সাথে বর্তমানের সেতুবন্ধন রচনা করে দেয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষণ আমরা যেভাবে কাটাই, তা ভবিষ্যতে আমাদের চারপাশের মানুষদের জন্য স্মৃতি হয়ে থেকে যায়। কারও হাসি, কারও পরিশ্রম, কারও ভালোবাসা কিংবা কারও সৎ কর্ম – সবকিছুই একদিন গল্প হয়ে বেঁচে থাকে। তাই প্রতিটি দিন আমাদের সততার সাথে কাটানো জরুরি, কারণ আমরা চাই বা না চাই, আমাদের কাজই হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় উপাখ্যান। অনেকেই বলেন, মৃত্যু মানেই সবকিছুর শেষ। কিন্তু বাস্তবে মৃত্যু কেবল দেহের অবসান ঘটায়, আত্মার নয়। আর স্মৃতি হলো আত্মার বহিঃপ্রকাশ। এক মায়ের আদরের ডাক, এক শিক্ষকের জ্ঞানদানের মুহূর্ত, এক বন্ধুর আত্মত্যাগ—এসব কখনো সময়ের ভাঁজে হারিয়ে যায় না। বরং এগুলো মানুষকে অনুপ্রাণিত করে সৎ পথে চলতে। মানুষের সাথে মানুষের এমন কিছু কথোপকথন বা আচরণ থাকে যা খুব ছোট বা বিনা পরিশ্রমে করা হলেও, সেটি কারও জন্য হয়ে ওঠে জীবনব্যাপী ...

চাই একটি স্থিতিশীল ইতিহাস।

চাই স্থিতিশীল ইতিহাস । — মো: শাহাদৎ হোসেন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে এসেও একটি জাতি যখন তার নিজস্ব ইতিহাসকে নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে, তখন তা নিছক উদ্বেগের নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য এক ভয়ঙ্কর সংকেত। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির ইতিহাস বারবার পাল্টে গেছে—এক একটি সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে ইতিহাসের ভাষ্য, পাল্টেছে শিক্ষার পাঠ্যবই, পরিবর্তন হয়েছে স্মৃতিচিহ্নের নাম, এমনকি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কিছু শব্দের উচ্চারণ; আবার পরবর্তী সরকার এসে সেই একই শব্দকে করেছে দণ্ডনীয় অপরাধ। এই চক্রটা থেমে নেই। যেন ইতিহাস নয়, ইতিহাসকে ঘিরে চলছে ক্ষমতার খেলা। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা—যারা এই জাতির ভবিষ্যৎ, যাদের উপর ভর করে জাতির আগামী দিনের স্বপ্ন—তারা আজ দ্বিধা ও সংশয়ের মধ্যে বেড়ে উঠছে। একটি প্রজন্ম যখন একই ঘটনার দুই বিপরীত ভাষ্য পায় পাঠ্যবইয়ে, তখন তাদের মনে প্রশ্ন জাগে—আসলে সত্য কী? তারা কার কথা বিশ্বাস করবে? আর সেই বিশ্বাসহীনতা ধীরে ধীরে জন্ম দেয় অবিশ্বাস, তৈরি করে আস্থার সংকট। একটি জাতির ইতিহাস যখন স্থিতিশীল থাকে না, তখন তার ভবিষ্যৎও স্থির থাকতে পারে না। ইতিহাস কেবল অতীতকে জানার জন্য নয়—তা ভবিষ্যতে...

গোঁফ দেখে যায় চেনা

গোঁফ দেখে যায় চেনা লেখক: মোঃ শাহাদৎ হোসেন মানুষের মনের ভাব ও অন্তর্নিহিত মনোভাব কখনো কখনো তার মুখাবয়ব বা শারীরিক ভাষা (body language)-এর মাধ্যমে ধরা পড়ে। চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ভ্রুর নড়াচড়া, ঠোঁটের অল্প হাসি কিংবা গোঁফের আকার—এসবই আমাদের জন্য একটি জীবন্ত ভাষা, যা অনেক কথা বলে দেয়। এই ব্লগের শিরোনাম “গোঁফ দেখে যায় চেনা” যদিও একটি প্রবাদবাক্য, তবে এর পেছনে গভীর অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। আসুন দেখি কিভাবে গোঁফসহ মানুষের শারীরিক এক্সপ্রেশন থেকে আমরা তাদের চরিত্র ও মনোভাব বুঝতে পারি। চোখের ভাষা চোখ শুধু দেখতে নয়, মনের কথা বলে। যখন কেউ আত্মবিশ্বাসী হয়, সে সরাসরি চোখে চোখ রাখে। আর যখন অস্বস্তি, লজ্জা বা ভীতি থাকে, তখন চোখ নামিয়ে নেয় বা অন্যদিকে তাকায়। চোখের দৃষ্টি যদি শান্ত ও স্থির হয়, বুঝতে হবে মানুষটি মনোযোগী ও চিন্তাশীল। ঠোঁট ও মুখের অভিব্যক্তি ঠোঁট কামড়ানো সাধারণত দ্বিধা, চিন্তা বা অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। চাপা হাসি হলে বুঝা যায় কেউ কিছু গোপন করছে বা মনের কথা প্রকাশ করতে চায় না। আর ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলে তা হয়তো ব্যঙ্গ বা বিদ্রূপ প্রকাশ করতে পারে। গোঁফের বৈশিষ্ট্য গোঁফ মানুষের ব্যক...

অনধিকার চর্চা: কষ্ট বাড়ানোর ফাঁদ

 অনধিকার চর্চা: কষ্ট বাড়ানোর ফাঁদ মোঃ শাহাদৎ হোসেন জীবনে চলার পথে আমরা প্রায়ই এমন কিছু কাজ করি, যেগুলো আমাদের দায়িত্ব বা অধিকার নয়—তবুও আমরা সেগুলোর মধ্যে জড়িয়ে পড়ি। ফলাফল? শুধু নিজেরই অশান্তি আর ভোগান্তি বাড়ে। এই বিষয়টিই আমরা বলি “অনধিকার চর্চা”—অর্থাৎ, যেটা নিজের কাজ নয়, তাতে অযথা মাথা ঘামানো। আমরা যখন অন্যের বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ বা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, তখন তা প্রাথমিকভাবে নিরীহ কৌতূহল মনে হলেও ধীরে ধীরে তা পরিণত হয় এক ধরনের মানসিক ও সামাজিক জটিলতায়। কে কী করছে, কে কার সাথে গেল, কার কত আয়—এই সব কিছুতে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া একদিকে যেমন নিজের সময় ও মানসিক শক্তির অপচয়, অন্যদিকে সামাজিক সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি করে। আমার শিক্ষকতা জীবনে বহুবার লক্ষ্য করেছি—ছাত্রছাত্রীরা অন্যের নম্বর বা ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হয়ে পড়ে, অথচ নিজের প্রস্তুতি যথাযথভাবে নেয় না। একইভাবে কর্মক্ষেত্রেও দেখা যায়—কে বসের সাথে বেশি কথা বললো, কে কোন প্রশংসা পেল—এসব নিয়ে চিন্তায় পড়ে অনেকেই নিজের কাজ ভুলে যায়। অথচ, এসব ভাবনা আসলে নিজের কষ্ট বাড়ানো ছাড়া কিছু নয়। আমরা যদি বুঝতে পারি যে প্রতিটি মানুষ আলাদা, প্রত্যেক...
 পৃথিবীতে আসা যাওয়ার পালা, কেউ চিরদিন থাকবে না – মোঃ শাহাদৎ হোসেন পৃথিবীতে আমাদের আগমন একটি সফরের সূচনা, আর বিদায় একটি অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। সময় যেন এক অবিরাম নদীর মতো—কারও জন্য থেমে থাকে না। আমরা সবাই এই ধরণীতে এসেছি কিছু সময়ের জন্য, অতিথির মতো, নির্ধারিত এক সফরের যাত্রী হয়ে। একটি কচি পাতা যখন গাছে জন্ম নেয়, তখন তা যেন সতেজ জীবনের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই পাতাই একদিন হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে মাটিতে। একটি কচি ডাটাও এক সময় শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। এসব প্রাকৃতিক চক্র আমাদের জীবনকে স্মরণ করিয়ে দেয়—সব কিছুরই একটি শুরু আছে, আবার শেষও আছে। মানুষও শিশু থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছায়। এ যাত্রাপথে তার অভিজ্ঞতা বাড়ে, জীবন ঘন হয়, কিন্তু সময় থেমে থাকে না। একজন মানুষ যেমন তার শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্য অতিক্রম করে, তেমনি একদিন এই জীবনযাত্রাও থেমে যায়। আমরা যেন পৃথিবীতে একটি ছোট সফরে এসেছি—কিছু দায়িত্ব পালন করতে, কিছু ভালোবাসা বিলাতে, কিছু স্মৃতি রেখে যেতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদেরও বিদায় নিতে হয়। এই বাস্তবতাই মানুষকে বিনম্র করে, দায়িত্বশীল করে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে গুরুত্ব...