Posts

কিসে কামিয়াব!

Image
কিসে কামিয়াব! মো: শাহাদৎ হোসেন পৃথিবীর এই বিশাল মঞ্চে আমরা সবাই যেন একেকজন অভিনেতা। কেউ রঙের দুনিয়ায় নিজেকে রাঙিয়ে তুলছি, কেউবা নাচে-গানে বা অভিনয়ের নিপুণ জাদুতে মাতিয়ে রাখছি হাজারো মানুষকে। খ্যাতি, জৌলুস আর করতালির শব্দে আমাদের চারপাশ মুখরিত থাকে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, এই ঝলমলে আলোর নিচে কতটা অন্ধকার লুকিয়ে থাকতে পারে? খ্যাতির বিড়ম্বনা ও নির্মম বাস্তবতা আমরা চারপাশে তাকালে এমন অনেক নজির দেখতে পাই, যারা একসময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলেন। শিল্পী হিসেবে যাদের নাম মানুষের মুখে মুখে ফিরত, শেষ জীবনে তাদের অনেককেই অতি কষ্টে, এমনকি ভিখারীর বেশে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। যৌবনের সেই উন্মাদনা আর রঙিন দিনগুলো যখন ফুরিয়ে যায়, তখন একাকীত্ব আর অভাব এসে হানা দেয়। এই যে আজন্ম সাধনা আর বিরামহীন কর্ম—যদি তার শেষ পরিণতি হয় এমন করুণ, তবে সেই সাফল্যকে কি আদৌ 'কামিয়াবি' বা সার্থকতা বলা যায়? যৌবনের অপচয় ও দুর্ভাগ্যের ছায়া যৌবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়। এই সময়ে আমরা অনেকেই 'যথেচ্ছা' জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। মনে হয় এই সামর্থ্য আর প্রতিপত্তি চিরকাল থাকবে। কিন্তু বা...

স্রোতের সামনের ঘোলা জল স্রোতের বিপরীত থেকে পরিষ্কার করা অসম্ভব ।

Image
স্রোতের বিপরীতে স্বচ্ছতা অসম্ভব মোঃ শাহাদৎ হোসেন জন্মদাতার প্রতি আমাদের দায় ও সীমাবদ্ধতা জীবনের এই বহমান স্রোতে আমরা প্রতিনিয়ত সামনের দিকে এগিয়ে চলি। পেছনে ফেলে আসি আমাদের উৎস, আমাদের জন্মদাতা—বাবা-মা। শৈশব থেকে শুরু করে পরিণত বয়স পর্যন্ত তাদের ছায়া আমাদের ওপর থাকে। কিন্তু একটা গভীর সত্য আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে: স্রোতের সামনের ঘোলা জল স্রোতের বিপরীত থেকে পরিষ্কার করা অসম্ভব। এটি একটি চরম সত্য। আমরা যেমন কোনো নদীর মোহনার ঘোলা জল উজানের দিকে ঠেলে দিয়ে স্বচ্ছ করতে পারি না, ঠিক তেমনি আমরা আমাদের জন্মদাতার কোনো আচরণ বা অভ্যাসকে সরাসরি পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারব না। 🎓 তথাকথিত আধুনিকতার কষাঘাত আজকাল অনেককেই দেখা যায়, দু'কলম বিদ্যা অর্জন করে, তথাকথিত আধুনিকতার আলো দেখে তারা নিজেদের বাবা-মাকে ধমক দেন। নিজের জীবনধারা বা চিন্তাভাবনার ছাঁচে তাদের ঢালতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। হয়তো তাদের উদ্দেশ্য ভালো থাকে—বাবা-মাকে আরও "স্মার্ট" বা "আপডেটেড" করা। কিন্তু এই পদ্ধতিটা পুরোপুরি ভুল। ফলাফল: এই ধরনের আচরণে বাবা-মা ও অন্যান্য মুরুব্বীরা মনে কষ্ট পান এবং এতে নাখো...
"উনাভাতে দুনা বল, বেশী ভাতে রসাতল": সুস্থতার প্রাচীন দর্শন— মোঃ শাহাদৎ হোসেনআমাদের প্রাচীণ সমাজ জীবন ও স্বাস্থ্যের এক গভীর রহস্য উন্মোচন করে একটি প্রবাদ, যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক: "উনাভাতে দুনা বল, বেশী ভাতে রসাতল।" এর মর্মার্থ হলো—পেটে এক অংশ খালি রেখে পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করলে (উনাভাতে) শরীর দ্বিগুণ শক্তি (দুনা বল) লাভ করে। অন্যদিকে, পেট ভরে অতিরিক্ত খাদ্য খেলে শরীর দুর্বল হয়ে রসাতলে যায়। এই প্রবাদটি কেবল লোককথা নয়, বরং এটি স্বাস্থ্য, শারীরিক কর্মক্ষমতা ও মানসিক মনোযোগের এক অব্যর্থ জীবন দর্শন।প্রবাদটির মূল জিজ্ঞাসা: খাদ্য কম খেলে শক্তি বেশি বাড়ে—এই আপাতবিরোধী ধারণাটি কীভাবে আমাদের জীবনের জন্য সত্য হয়? নিচে এর বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক আলোচনা করা হলো।১. উনাভাতে দুনা বল: পরিমিত ভোজনের বিজ্ঞানপেট ভরে খাওয়ার পর ক্লান্তি, আলস্য ও তন্দ্রাচ্ছন্নতা আসে—এটি আমাদের প্রায় সবারই পরিচিত অভিজ্ঞতা। এর বিপরীতে, 'উনাভাতে' অর্থাৎ পেটে খানিকটা খালি রেখে খেলে শরীর সতেজ থাকে। এর পেছনের কারণগুলো হলো:সংরক্ষিত শক্তি ও কার্যক্ষমতা: যখন আমরা অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করি, হজম প্রক্রিয়ার জন্য শর...
Image
"বেশী খাবি তো কম খাবি": দীর্ঘ জীবনের গোপন রেসিপি 🍎 ✍️ লেখক: মোঃ শাহাদৎ হোসেন আমাদের খাদ্যাভ্যাসও আমাদের জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক নীরব বার্তা দেয়। আমরা প্রতিদিনের প্লেটে কতটুকু রাখছি, তার ওপরই নির্ভর করে আমরা জীবনের টেবিল থেকে কতদিন ধরে খাবার গ্রহণ করতে পারব। এই ব্লগটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে এই সত্যটি তুলে ধরবে: বেশী খাবি তো কম খাবি! ১. দীর্ঘ আয়ু: অল্প আহারের পুরস্কার 🧘 আমাদের শরীর একটি সূক্ষ্ম যন্ত্রের মতো। আপনি যদি এই যন্ত্রটিকে দৈনিক সামান্য পরিমাণ জ্বালানি দেন, তবে তা মসৃণভাবে দীর্ঘদিন চলতে পারে। 🩺 চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলে? (Calorie Restriction) আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি প্রমাণিত ধারণা হলো 'ক্যালোরি রেস্ট্রিকশন' (Calorie Restriction - CR)। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিতভাবে প্রয়োজনের তুলনায় ২০-৪০% কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে তা বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। কোষের মেরামত (Cellular Repair): অল্প পরিমাণে খাবার খেলে শরীর 'অটোফেজি' (Autophagy) প্রক্রিয়া শুরু করে। এটি কোষের ভেতরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোকে পরিষ্কার করে, যা দীর্...
Image
"গতস্য শোচনা নাস্তি" – সামনে চলার পথে অতীতকে সঙ্গী করে মোঃ শাহাদৎ হোসেন "গতস্য শোচনা নাস্তি" - এই একটি সংস্কৃত উক্তি, যার অর্থ "যা ঘটে গেছে, তার জন্য অনুশোচনা নেই"। এই কথাটি কেবল একটি উপদেশ নয়, বরং জীবন চলার পথের এক গভীর দর্শন। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির মতো বৃহৎ ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তিগত জীবনে মুক্তির মন্ত্র আমরা মানুষ হিসেবে প্রায়শই আমাদের অতীতকে এক বিশাল বোঝা হিসেবে বয়ে বেড়াই। অতীতের ভুল, ব্যর্থতা, কিংবা অপূর্ণতা যেন আমাদের বর্তমানের প্রতিটি পদক্ষেপে শেকল পরিয়ে রাখে। কেউ হয়তো একটি খারাপ সম্পর্ককে, কেউ বা একটি বড় আর্থিক ক্ষতির স্মৃতিকে, আর কেউ হয়তো এক ভুল সিদ্ধান্তকে আঁকড়ে ধরে থাকি। আমরা অতীতকে এমনভাবে দেখি যেন অতীতই আমাদের সব, আমাদের পরিচয়ের শেষ কথা। কিন্তু সত্য হলো, অতীত কেবল একতাল স্মৃতি নয়, এটি হলো এক মূল্যবান শিক্ষকের ভান্ডার। আমাদের অবশ্যই অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে—কোন পথে এগোলে হোঁচট খেতে হয় না, কোন অভিজ্ঞতা আমাদের শক্তিশালী করেছে। তবে, সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সামনে আগাতে হবে। অতীত একটি গাড়ির রিয়ার-ভিউ মি...

রাগ নিয়ন্ত্রণ: কেন এটি কেবল একটি আবেগ নয়, একটি জীবনশৈলী

Image
আমি ছোটবেলায় একটা মজার কথা শুনতাম, যা সম্ভবত পুরনো দিনের পারিবারিক প্রথার অংশ ছিল। মহিলারা নাকি রান্নার পাত্রের উপরের দিকের ভাত (जिसे 'আগ ভাত' বলা হতো) স্বামীর জন্য তুলে রাখতেন। এর কারণ হিসেবে বলা হতো, আগ ভাত খেলে নাকি রাগ বাড়ে আর রাগ পুরুষেরই মানায়! এই কথাটি আজকের দিনে হয়তো হাস্যকর শোনাবে, কিন্তু এর পেছনের মূল বার্তাটি কিন্তু গভীর—রাগ নিয়ন্ত্রণ করা সকলের জন্যই জরুরি, সে পুরুষ হোক বা নারী। আমার নিজের অভিজ্ঞতাও এই ধারণার বাইরে নয়। অনেক সময় 'কেউ কী বলবে' বা 'যদি প্রত্যাখ্যাত হই' এই ভয়ে আমি অনেক দরকারি কথা বলিনি বা কাজ করা থেকে বিরত থেকেছি। হয়তো আমার মতো আপনারও এমন অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু দিন শেষে একটি বিষয় পরিষ্কার: রাগ করলে ক্ষতিই হয়, কোনো লাভ হয় না—এটি পরীক্ষিত সত্য। শুধুমাত্র মানসিক অশান্তি নয়, রাগ আমাদের শরীরকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আসুন, ডাক্তারী, ধর্মীয় এবং ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাগের ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব আলোচনা করি। ১. ⚕️ ডাক্তারী দৃষ্টিকোণ: রাগের শরীরবৃত্তীয় ক্ষতি আধুনিক বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা শাস্ত্র স্পষ্টভাবে প্রমাণ কর...

বনের পাখির জন্ম দিচ্ছেন না তো?

Image
মোঃ শাহাদৎ হোসেন আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো—সন্তান। আমরা চাই সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আলোয় আলোকিত হোক, সফলতার শিখরে পৌঁছাক। কিন্তু এই শ্রেষ্ঠত্বের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে গিয়ে, আমরা কি অজান্তে তাদের সেই মূলের বাঁধন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছি, যার ওপর ভর করে মানুষ মাটি কামড়ে দাঁড়িয়ে থাকে? আমরা কি তাদের এমন এক 'বনের পাখি' হিসেবে তৈরি করছি, যারা ডানা মেলার পর আর নীড়ে ফিরে আসার প্রয়োজন বোধ করবে না? শেকড়হীনতার বীজ: উপেক্ষিত সম্পর্ক আজকের দিনে আমরা একটি ভুল ধারণা পোষণ করি—দাদা-দাদী, নানা-নানীর কাছে সময় কাটানো মানে সময়ের অপচয়। আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ করে দেওয়াটাকে আমরা গুরুত্ব দেই না, কারণ আমাদের কাছে মনে হয় এতে পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এর ফল কত মারাত্মক, তা আমরা বুঝি না। যখন একটি শিশু তার মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, সে শুধু পরিবার নয়, নিজের আত্মপরিচয় এবং দায়িত্ববোধ থেকেও দূরে সরে যায়। এই বিচ্ছিন্নতা তার হৃদয়ে জন্ম দেয় এক ধরনের শূন্যতা, যার ফলস্বরূপ: মমতার বাঁধন আলগা হয়: নিজের জন্মদাতার প্রতিও তার মায়া ও মমতা কমে যেতে থাকে। দায়িত্বের প্রতি উদাস...