পেশাজীবীদের সম্মান করতে হবে: সভ্যতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন
পেশাজীবীদের সম্মান করতে হবে: সভ্যতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন
মোঃ শাহাদৎ হোসেন
আমাদের চারপাশে তাকালে আমরা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখতে পাই। এই সমাজ, এই সভ্যতা – এর প্রতিটি ইট, প্রতিটি পরিষেবা হাজারো মানুষের শ্রম আর ঘামের ফল। অথচ, প্রায়শই আমরা কেবল কাজের ধরন দেখে মানুষের সম্মান বিচার করি, ভুলে যাই প্রতিটি পেশা, তা যত ছোট বা বড় হোক না কেন, তা এই সমাজের ভিত্তি ধরে রেখেছে।
আজকের এই লেখায়, আমি একজন মুচি থেকে শুরু করে একজন উচ্চপদস্থ সচিব পর্যন্ত—সকল পেশাজীবীর প্রতি আমাদের কেন কৃতজ্ঞ ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত, সেই নৈতিক বার্তাটি তুলে ধরতে চাই।
১. শ্রমিকের অন্তরালের পরিচয়
আমরা যখন একজন শ্রমিককে দেখি, তখন প্রায়শই তাকে কেবল 'শ্রমিক' হিসেবেই চিহ্নিত করি। কিন্তু সেই মানুষটি হয়তো আমাদেরই মতো একটি পরিবারের কর্তা, একজন বাবা, একজন ভাই, চাচা, মামা বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তিনি হয়তো তাঁর নিজের সন্তানের গর্বিত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
গর্বিত অবদান: মুচি যিনি আমাদের জুতো সারিয়ে পথ চলার যোগ্য করে তোলেন, কিংবা পরিচ্ছন্নতাকর্মী যিনি শহরকে স্বাস্থ্যকর রাখেন—প্রত্যেকেই সভ্যতার নীরব স্থপতি। তাঁদের শ্রমে ও ঘামে আমাদের এই আধুনিক কাঠামোটি দাঁড়িয়েছে। আমরা হয়তো সেই কষ্টের কাহিনি জানি না, কিন্তু তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।
২. সম্মান না করা কি দাম্ভিকতা নয়?
যখন আমরা কাজের প্রকৃতি দেখে কাউকে ছোট করি বা সম্মান জানাই না, তখন তা কি এক ধরনের দাম্ভিকতা নয়?
যে মানুষটি হয়তো পিছনে বহু না-পাওয়া, বহু আত্মত্যাগ নিয়েও সমাজের চাকা সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁকে সম্মান না করাটা আমাদের মানবতাবোধের দুর্বলতা প্রকাশ করে। সম্মান দেখানোর অর্থ কেবল কাজের প্রশংসা নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে তাঁর মর্যাদা ও গুরুত্বকে স্বীকার করে নেওয়া।
৩. সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আমাদের দায়িত্ব
নৈতিক শিক্ষা আমাদের শেখায় যে, এই পৃথিবীর প্রতিটি জীবই আমাদের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার প্রত্যাশা করে। আর মানুষ তো সৃষ্টির সেরা জীব। আমাদের বিচার-বুদ্ধি, সহানুভূতি এবং ভালোবাসার ক্ষমতা আছে।
যদি আমরা সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও অন্য একজন মানুষকে, যিনি নিজের শ্রম দিয়ে আমাদের জীবন সহজ করছেন, তাঁকে সম্মান করতে না পারি, তবে আমরা মানবিকতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলাম না।
কাজেই, আমাদের মনে রাখতে হবে:
পদ বা অর্থ নয়, শ্রম ও সততাই হলো সম্মানের মাপকাঠি।
আপনার হাতে থাকা মোবাইলটি যিনি তৈরি করেছেন, আপনার অফিসের কাগজপত্র যিনি গুছিয়ে দিয়েছেন, আপনার পথ যিনি পরিষ্কার করেছেন—সকলেই সমানভাবে আমাদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য।
আসুন, আমরা সকলে মিলে একটি এমন সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে প্রত্যেক পেশাজীবী তাঁর কাজের জন্য পূর্ণ মর্যাদা এবং সম্মান পান। এটাই হোক আমাদের WISDOM-24-এর মতো নৈতিক শিক্ষার মূল বার্তা।

Comments
Post a Comment