’সুখ কোথায়’
মোঃ শাহাদৎ হোসেন
সুখ! এ এক মায়াবী শব্দ, যার সন্ধানে আজীবন ছুটে চলেছি আমরা। জীবনের প্রতিটি বাঁকে এই একটি জিনিসেরই খোঁজ — কীভাবে সুখী হওয়া যায়, কী করলে শান্তি মেলে? আমাদের প্রচলিত ধারণা হয়তো এটাই যে, সুখ অর্জনের জন্য চাই অফুরন্ত সম্পদ। হ্যাঁ, জীবনধারণের জন্য পরিমিত সম্পদ অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই 'পরিমিত' শব্দটি যেন কখন হারিয়ে যায়!
সম্পদ আহরণের এই নেশা যখন মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন তা আর প্রয়োজন থাকে না, জন্ম দেয় এক ভয়ংকর প্রবণতার – লোভের। এই অতিরিক্ত আয় আর সম্পদ লাভের আশায় মানুষ দিন রাত নিরন্তর পরিশ্রম করেছে, নিজের স্বাস্থ্য আর সম্পর্ককে করেছে অবহেলা। আর জীবনের শেষে কী হয়? অর্জিত সম্পদের একটা বড় অংশই ব্যয় করতে হয় অসুস্থ হয়ে কাল কাটাতে।
লোভ এক অতৃপ্ত ক্ষুধা, যা কখনোই মেটে না। আর এই লোভই মানুষকে অন্ধ করে দেয়। তখন সম্পদ অর্জনের পথটি আর সৎ থাকে না, তা মানুষকে ঠেলে দেয় অনৈতিকতার দিকে, পাপের পথে। আমরা ভুলে যাই যে, লক্ষ লক্ষ টাকা বা বস্তুর স্তূপ হয়তো ক্ষণিকের তৃপ্তি দিতে পারে, কিন্তু তা কখনোই মনের স্থায়ী শান্তি এনে দিতে পারে না। দুঃখের বিষয়, যাদের সম্পদ বেশি, প্রায়শই তাদেরই ঋণ বেশি থাকে— কারণ তাদের চাহিদা কখনোই শেষ হয় না।
আবার অনেকে মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নয়, বরং দূরে গেলেই, পরিবেশ পরিবর্তন করলেই বুঝি কাঙ্খিত অতিরিক্ত সুখ মিলবে। তাই মানুষ ঘর ছেড়ে চলে যায় দূর শহরে, প্রিয়জনদের ছেড়ে পাড়ি দেয় দেশান্তরে। নতুন দেশ, নতুন জীবন... বাইরে থেকে দেখতে হয়তো ঝলমলে লাগে, কিন্তু তার ভেতরের ছবিটা কেমন? জানা নেই, এই দূরযাত্রার মাঝে কতটুকু সত্যিই শান্তি আছে, আর কতটুকু কেবলই নতুন আবরণের নিচে লুকিয়ে থাকা অশান্তি।
তবে, এই নিরন্তর সুখের পিছনে না দৌঁড়ে, আরেক দল মানুষ তাদের স্বল্প মাত্রার লক্ষ্য নির্ধারণ করে জীবন যাপন করছে এবং দিব্যি সুখেই আছে। তারা জানে, চাহিদা সীমিত রাখলে জীবনটা অনেক সহজ ও শান্ত হয়।
প্রকৃতপক্ষে, সুখের ঠিকানা সম্ভবত কোথাও নেই— না সম্পদের প্রাচুর্যে, না দূর দেশের নতুন ঠিকানায়। সুখ পাখিটা কোথায়, সেটা আমাদের মন দিয়ে বুঝতে হবে। আমরা যতদিন সুখের সন্ধান করতে গিয়ে সম্পদের লোভে পড়ব, ততদিনই আমরা সুখ থেকে দূরে সরে যাব এবং নিজেদের মানবিকতা হারাব।
সুখ কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নয়, এটি হলো আমাদের ভেতরের একটি অবস্থা, যা আমরা আমাদের জীবনযাত্রার প্রতিটি মুহূর্তে তৈরি করে নিতে পারি। অল্পে সন্তুষ্ট থাকা, সম্পর্কের যত্ন নেওয়া আর লোভকে বর্জন করার মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত সুখের চাবিকাঠি।
অপরাধরা পরস্পর সর্ম্পকযুক্ত
অপরাধরা পরস্পর সর্ম্পকযুক্ত মোঃ শাহাদৎ হোসেন, সাভার মানব সমাজে অপরাধ একটি বহমান স্রোতের মতো। ছোট থেকে ছোট অপরাধের শিকড় যদি উপড়ে না ফেলা হয়, তবে তা বড় অপরাধের জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেন, সামান্য অন্যায় তেমন কোনো ক্ষতির কারণ নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সামান্য অপরাধই পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ভিক্ষাবৃত্তি যেমন একটি ঘৃণিত কাজ, তেমনি রাস্তায় বা অন্য কোথাও পড়ে পাওয়া জিনিস নিজের মনে করাও কি কম অপরাধ? আমরা প্রায়শই দেখি, কারও হারানো সামান সামগ্রী তুলে নিয়ে নিজের করে নেয়া হয়। এটি হয়তো প্রকাশ্যে চুরি নয়, কিন্তু এক প্রকার নীরব চুরি। এ ধরনের কাজ মানুষের মনে অসৎ সাহস জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে বড় অপরাধে রূপ নিতে পারে। অনেকে অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ করে—যা একধরনের অপ্রকাশিত অপরাধ। কিন্তু সেই লোভই যখন বাস্তবায়িত হয়, তখন সমাজে ঘটে বড় ধরনের ক্ষতি। উৎকোচ গ্রহণ বা ঘুষ নেওয়াও তাই এক ধরনের জুলম। এখানে কেউ হয়তো জোর করে কিছু কেড়ে নিচ্ছে না, কিন্তু অন্যায়কে মেনে নেওয়ার বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। একদিকে পকেটমার সরাসরি ক্ষতি করে, অন্যদিকে ঘুষখোর নীরবে সমাজের ভিত দুর্বল করে দে...

Comments
Post a Comment