আবার ফিরতে হবে যথাস্থানে
আবার ফিরতে হবে যথাস্থানে
– মোঃ শাহাদৎ হোসেন
আমরা এমন এক সভ্যতায় বসবাস করছি, যেখানে যন্ত্র আমাদের জীবনযাত্রার মূল চালিকাশক্তি। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত, প্রতিটি মুহূর্তে কোনো না কোনো যন্ত্র আমাদের কাজে সহযোগিতা করছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ইলেকট্রিক গাড়ি, রোবট, অ্যালগরিদম—সব মিলিয়ে মনে হয় যেন আমরা এক পরিপূর্ণ যান্ত্রিক সমাজে পরিণত হয়েছি। কিন্তু একবার চিন্তা করুন—যদি কোনো একদিন এই যন্ত্রগুলো হঠাৎ করে থেমে যায়?
এই প্রশ্ন কল্পনার মনে হলেও, বাস্তবে এটি একদিন আমাদের ভবিষ্যৎ হতে পারে। বৈদ্যুতিক শক্তির অভাব, সূর্য ঝড়, বৃহৎ মাত্রার সাইবার আক্রমণ, বা প্রযুক্তিগত অচলাবস্থা যদি একত্রে সংঘটিত হয়, তাহলে আমাদের বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতা সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে আর কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, বা ডিজিটাল সিস্টেম কাজ করবে না। মানুষকে আবার ফিরে যেতে হবে তার প্রাচীন চর্চায়—হাত-পা চালিত যন্ত্র, ম্যানুয়াল পদ্ধতি, সরল জীবন।
আমি একজন শিক্ষক ও চিন্তাশীল নাগরিক হিসেবে মনে করি—এই বাস্তবতার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। আমাদের প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে থাকা উচিত একটি ‘বিকল্প দক্ষতা’—যা শুধুমাত্র যন্ত্রনির্ভর নয়, বরং মানবিক বুদ্ধি, কর্মক্ষমতা এবং শারীরিক দক্ষতায় পরিচালিত। নইলে প্রযুক্তিনির্ভরতায় অভ্যস্ত এই সমাজ, সেই যন্ত্র থেমে যাওয়া দিনে এক গভীর বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
তাই এখন থেকেই আমাদের সচেতন হতে হবে। শিশুদের হাতে শুধু ট্যাব তুলে না দিয়ে খাতা-কলম দিন। তরুণদের শুধু কোড শেখাবেন না, শিখান কীভাবে একটি ক্ষেত চাষ করতে হয়, কীভাবে একটি বাতি মেরামত করা যায়, কীভাবে নিজ হাতে কিছু গড়ে তোলা যায়। এটাই আমাদের প্রস্তুতি—যদি কোনোদিন আবার ফিরে যেতে হয় যথাস্থানে।
সভ্যতা যতই এগিয়ে যাক না কেন, তার ভিত্তি যেন কখনো হারিয়ে না যায়। কারণ, আমাদের হাত-পায়ের কাজ আর মানবিক প্রজ্ঞাই শেষ পর্যন্ত সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখে।
Comments
Post a Comment