অপরের দুঃখে ব্যথিত সুখে আনন্দিত।

 অপরের দুঃখে ব্যথিত আর আনন্দে খুশি হওয়া ।

মো: শাহাদৎ হোসেন

মানবতা হলো এমন এক আলোকবর্তিকা, যা আমাদের হৃদয়কে আলোকিত করে। আমরা যখন অপরের দুঃখে ব্যথিত হই কিংবা আনন্দে খুশি হই, তখনই প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি। এই গুণ আমাদের সামাজিক জীবনের গভীর মর্মবোধের পরিচায়ক।

সহানুভূতির শক্তি

বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক হেলেন কেলার একবার বলেছিলেন,  “The best and most beautiful things in the world cannot be seen or even touched – they must be felt with the heart.”

এই অনুভবের নামই সহানুভূতি। যখন আমরা অন্যের কষ্ট অনুভব করি, সেটা কেবল সহানুভূতি নয়, বরং মানবিকতার বাস্তব প্রতিফলন।

প্রখ্যাত দার্শনিক জঁ-পল সার্ত্র বলেন,  “Man is nothing else but what he makes of himself.”

যে মানুষ অন্যের দুঃখকে নিজের করে নেয়, সে-ই প্রকৃত অর্থে আত্ম-গঠনের পথে এগিয়ে চলে।

আনন্দে অংশগ্রহণের মহত্ব

অনেকেই অন্যের কষ্টে হয়তো পাশে দাঁড়ান, কিন্তু অন্যের আনন্দে শরিক হওয়া অনেক সময় বেশি কঠিন হয়। ঈর্ষা ও প্রতিযোগিতার এই যুগে অন্যের সাফল্যে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো একটা বিরল গুণ।

অ্যারিস্টটল বলেছিলেন,  

“What is a friend? A single soul dwelling in two bodies.”

বন্ধুত্বের প্রকৃত রূপ তখনই প্রকাশ পায়, যখন আমরা সত্যিকার অর্থে আনন্দে শরিক হই, এমনকি সেটা আমাদের নিজের জীবনের বাইরেও হয়।

আমার শিক্ষকতা জীবনে আমি বহুবার দেখেছি—শিক্ষার্থীরা যখন একে অপরের সফলতায় খুশি হয়, তখন তাদের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়, তাদের চিন্তাভাবনাও হয় ইতিবাচক।

বাংলা সাহিত্যে সহানুভূতি ও সহমর্মিতাl

বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন,  যে দুঃখে আছে আনন্দ, সে দুঃখই ভালোবাসার।রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন, ভালোবাসা মানেই একজন আরেকজনের কষ্ট ভাগ করে নেওয়া, আর আনন্দে মিশে যাওয়া।

কাজী নজরুল ইসলামও বলেছিলেন,  মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। এই ‘মানুষ’ হওয়ার আসল মাপকাঠি হলো—অন্যের অনুভূতিকে নিজের করে নেওয়া।

সমাজ গঠনে প্রভাব:

যদি আমরা সবাই অন্যের কষ্টে সহানুভূতিশীল হই এবং অন্যের সুখে আন্তরিকভাবে আনন্দিত হই, তাহলে সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ কমে আসবে, সম্পর্ক হবে গভীর, আর গড়ে উঠবে এক ভালোবাসাময় পৃথিবী।

আমার বিশ্বাস, আজকের দিনে এই মানবিক গুণচর্চা অতীব প্রয়োজন। আমরা যদি প্রতিদিন অন্তত একজন মানুষের কষ্ট বুঝে একটু পাশে দাঁড়াতে পারি, অথবা কারো ছোট একটি সফলতায় আন্তরিক হাসি উপহার দিতে পারি—তাহলেই আমাদের আশেপাশের পৃথিবীটা অনেকখানি সুন্দর হয়ে উঠবে।

শেষ কথা:

মানুষের আসল পরিচয় তার সহমর্মিতা ও আন্তরিকতায়।  "অপরের দুঃখে ব্যথিত আর আনন্দে খুশি হওয়া"—এই চেতনায় গড়ে উঠুক আমাদের প্রতিদিন। তাহলেই আমরা একে অপরের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারবো।

মো: শাহাদৎ হোসেন

Comments

Popular posts from this blog

আত্মবিশ্বাস ও সফলতা

মানব জনমের স্বার্থকতা